Home

মাসুম এগ্রিকালচারাল ভিলেজে স্বাগতম

আমি পেশায় একজন “ঈমাম”। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সমাজ ও দেশের স্বার্থে কিছু একটা করার প্রচ- ইচ্ছা ছিল আমার। লেখাপড়া শেষ করে যখন থেকে চাকুরিতে যোগদান করি তখনও আমার সেই ঝোঁকটা খেকেই যায়। প্রায়সই চাকুরিতে থেকেও আমি ব্যাতিক্রমধর্মী কোন কাজ করার চিন্তা করতাম। ২০০২ সালে আমি কিছু কৃষি জমি ক্রয় করি। ২০০৭ সালে সেখানে মাটি কেটে কৃষি প্রোজেক্টের কাজ শুরু করি।
আমি যে পেশায় কাজ করছি তার পাশাপাশি একটি কৃষি খামারের মালিক হতে পেতে আমি গর্বিত। কেননা আমি যখন আমার গাছে ফল-ফসল, সাক-সবজি উৎপাদন করতে পারি, তখন আমার অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। তাছাড়া আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের কারণে, এই কৃষি প্রোজেক্টের মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে। পূর্বে আমাদের এলাকায় এমন কোন কৃষি প্রোজেক্ট ছিল না। আমি শুরু করার পর এখন আমাদের এ অঞ্চলে অনেকগুলো কৃষি প্রোজেক্ট হয়েছে। লোকজন আমার দেখাদেখি নতুন নতুন ফলের চাষ করে সফল ও সাবলম্বি হচ্ছে। আমি যে এসব লোককে উৎসাহিত করতে পেরেছি, এটাই আমার স্বার্থকতা।
আমার কৃষিপ্রোজেক্টের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি রাসায়নিকমুক্ত পণ্য উৎপাদন করাও আমার অন্যতম উদ্দেশ্য। যাতে এখানকার কোন পণ্য কেউ গ্রহণ করলে সে যেন কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। বর্তমান সময়ের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যাবহার ব্যাপক হারে বেরে যাওয়ায় জমি যেমন তার উর্বরতা হারাচ্ছে তেমনি ভাবে দূষিত হচ্ছে মাটি ও পানি। আমি এই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যাবহারের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষে আমি আমার প্রোজেক্টকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত রেখেছি। আমাদের দেখাদেখি এখানকার অনেকেই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে। কৃষকরা যেখানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যাবহার না করে কৃষিকাজে লাভবান হওয়ার কথা কল্পনাই করতে পারতো না, সেখানে তারা স্বাভাবিব ভাবেই বিষয়টিকে গ্রহণ করছে। এভাবে এক সময় হয়তো জৈবিক পদ্ধতির চাষাবাদই স্বাভাবিকভাবে কৃষকরা গ্রহণ করে নিবে। যা আমাদের দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে।
ভবিষ্যতে আমার কৃষি খামারকে কৃষিভিত্তিক একটি বিনোদন কেন্দ্র বা রিসোর্টে রুপায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যাতে কৃষি শিক্ষা বই অধ্যায়ন করে তার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায়োগিক শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারে এখানে তার ব্যাবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমাদের সকল কার্যক্রম হবে মানুষের সার্বিক কল্যানের স্বার্থে। আমাদের পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন সাধন করবে। অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা করা এবং পরিবেষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই হবে আমাদের লক্ষ্য। কোন কৃষক যদি নতুন কোন কৃষিপ্রোজেক্ট করতে চায়, সে ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সেচ্ছায় সহযোগিতা, পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণের সুবিধা দিয়ে উপকৃত করতে বদ্ধপরিকর।

10 Comments

Leave a Comment